কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ | Cox’s Bazar Express Train Schedule

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬: ঢাকা থেকে সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারে দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় সংযোজন হলো “কক্সবাজার এক্সপ্রেস”। আপনি যদি পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা কাজের তাগিদে কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে ট্রেনের সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া, ট্রেনের ছুটি বা বন্ধের দিন, অনলাইন ও কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার নিয়ম এবং ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় বিভিন্ন টিপস নিয়ে।

সমুদ্রের বিশালতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক কক্সবাজার গমন করেন। পূর্বে বাস বা বিমানে যাতায়াতই ছিল একমাত্র মাধ্যম, তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন লাইন চালু হওয়ার পর ট্রেন ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে আরামদায়ক যাত্রার জন্য কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া জানা প্রতিটি ভ্রমণার্থীর জন্য আবশ্যক।

১. কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি ও আধুনিক সুবিধাসমূহ

কক্সবাজার এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৮১৩/৮১৪) হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত একটি অত্যাধুনিক নন-স্টপ বিরতিহীন ইন্টারসিটি (আন্তঃনগর) ট্রেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে চালু হওয়া এই ট্রেনটি ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে সরাসরি যাতায়াত নিশ্চিত করেছে।

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • আধুনিক চাইনিজ কোচ: ট্রেনটিতে বিশ্বমানের ও আধুনিক সুবিধার চাইনিজ কোচ ব্যবহার করা হয়েছে।
  • বায়ো-টয়লেট ব্যবস্থা: পরিবেশবান্ধব বায়ো-টয়লেট থাকার কারণে ট্রেনটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন থাকে।
  • বিলাসবহুল আসন: স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) এবং শোভন চেয়ার উভয় শ্রেণির জন্যই আরামদায়ক সিটের ব্যবস্থা রয়েছে।
  • নিরাপত্তা ও গতি: দ্রুতগতির ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এবং ট্রেনজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
  • খাবার গাড়ি (Catering Service): ট্রেনের ভেতরে স্ন্যাকস, চা, কফি এবং স্নিগ্ধা যাত্রীদের জন্য রুচিসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

২. ঢাকা থেকে কক্সবাজার: কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সূচী অনুসরণ করা হয়। সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য আপনার নিবন্ধিত টিকিটের পাশাপাশি কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া মাথায় রাখা প্রয়োজন।

ট্রেন নম্বর & নামপ্রারম্ভিক স্টেশনছাড়ার সময়গন্তব্য স্টেশনপৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক বন্ধের দিন
৮১৩ (কক্সবাজার এক্সপ্রেস)ঢাকা (কমলাপুর)রাত ১২:৩০ মিনিটকক্সবাজারসকাল ০৬:৪০ মিনিটমঙ্গলবার

বিরতি স্টেশন (ঢাকা টু কক্সবাজার):

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ট্রেনটি মাঝপথে কেবল বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সংক্ষিপ্ত বিরতি প্রদান করে। যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক কারণ অন্যান্য স্টেশনে অপ্রয়োজনীয় বিরতি না থাকায় খুব কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

৩. কক্সবাজার থেকে ঢাকা: কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

কক্সবাজারের আইকনিক ঝিনুক আকৃতির রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রিটার্ন ট্রেনের নম্বর হলো ৮১৪। কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে নিরাপদে ও সময়মতো ঢাকায় ফেরার জন্য ট্রেনটির সময়সূচী জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রেন নম্বর & নামপ্রারম্ভিক স্টেশনছাড়ার সময়গন্তব্য স্টেশনপৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক বন্ধের দিন
৮১৪ (কক্সবাজার এক্সপ্রেস)কক্সবাজারদুপুর ১২:৩০ মিনিটঢাকা (কমলাপুর)সন্ধ্যা ০৬:৪০ মিনিটমঙ্গলবার

যাত্রা বিরতি সম্পর্কিত তথ্য:

কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথেও ট্রেনটি কক্সবাজার স্টেশন ছেড়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে সাময়িক বিরতি দিয়ে মূল স্টেশন কমলাপুরে এসে থামে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এড়াতে ভ্রমণের অন্তত ৩০ মিনিট পূর্বে স্টেশনে উপস্থিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া তালিকা ও আসন বিন্যাস

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত শ্রেণিভিত্তিক টিকিটের মূল্য তালিকা নিচে প্রদান করা হলো। আপনার বাজেট ও সুবিধা অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারবেন। নিচে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো:

সিটের শ্রেণি / ক্লাসের নামঢাকা – কক্সবাজার ভাড়া (১৫% ভ্যাট সহ)চট্টগ্রাম – কক্সবাজার ভাড়া
শোভন চেয়ার (Shovon Chair)৬৮৫ টাকা২৫০ টাকা
স্নিগ্ধা (Snigdha / AC Chair)১,৩২৫ টাকা৪৭০ টাকা
প্রথম সিট / ফাস্ট ক্লাস (First Class)১,৫৩৫ টাকা৫৬০ টাকা
এসি বাার্থ / এসি কেবিন (AC Berth)২,৩৮০ টাকা৯০০ টাকা

দ্রষ্টব্য: সরকার বা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোনো সময় টিকিটের ভাড়া এবং ভ্যাটের হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের পূর্বে সর্বশেষ অনলাইন আপডেট দেখে নেওয়া ভালো।

৫. কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (Off Day)

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দূরপাল্লার ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক রক্ষণাবেক্ষণ দিন থাকে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলো মঙ্গলবার।

  • মঙ্গলবার: ঢাকা থেকে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে ঢাকা—উভয় পথেই কক্সবাজার এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে।
  • অন্যান্য দিন: বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রবি এবং সোমবার নিয়মিতভাবে ট্রেনটি চলাচল করে।

বুকিং করার সময় মঙ্গলবার বাদে সপ্তাহের অন্য যেকোনো দিন নির্বাচন করুন। প্রয়োজনে পর্যটক এক্সপ্রেস (Train No 815/816) এর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে যা কক্সবাজার রুটের অপর একটি জনপ্রিয় ট্রেন।

৬. ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের দূরত্ব ও সময়কাল

রেলপথে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের মোট দূরত্ব প্রায় ৫৩৫ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন নির্মিত রেললাইনের দৈর্ঘ্য ১০১ কিলোমিটার।

  • মোট ভ্রমণের সময়: প্রায় ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
  • গড় গতিসীমা: ৭০ থেকে ৮০ কিমি/ঘণ্টা।

আগে বাসে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগত এবং যানজটের ঝামেলা সহ্য করতে হতো। কিন্তু কক্সবাজার এক্সপ্রেস চালুর ফলে নিশ্চিন্তে ও আরামদায়ক পরিবেশে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরাসরি সমুদ্রসৈকতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।

৭. অনলাইন ও কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট কাটার সহজ নিয়ম

রেলওয়ের টিকিট সংগ্রহ করার দুটি মাধ্যম রয়েছে— একটি হলো অনলাইন এবং অপরটি হলো সরাসরি স্টেশন কাউন্টার। বর্তমানে ১০ দিন পূর্বে অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত করা হয়।

ক) অনলাইনে টিকিট কাটার পদক্ষেপ:

১. বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (eticket.railway.gov.bd) যান অথবা Rail Sheba App ডাউনলোড করুন।

২. আপনার NID/জন্ম নিবন্ধন এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার বা লগইন করুন।

৩. “From” এ Dhaka এবং “To” এ Cox’s Bazar নির্বাচন করুন।

৪. আপনার ভ্রমণের তারিখ এবং সিট ক্লাস (Snigdha / Shovon Chair) সিলেক্ট করে সার্চ দিন।

৫. সঠিক কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া দেখে সিট পছন্দ করুন এবং বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।

৬. ডিজিটাল টিকিট ডাউনলোডের পর প্রিন্ট করে বা মোবাইলে সংরক্ষণ করুন।

খ) স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা:

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর স্টেশন বা কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে সরাসরি গিয়ে NID কার্ড প্রদর্শন করে টিকিট ক্রয় করতে পারেন। তবে চাহিদা বেশি থাকায় যাত্রার বেশ কিছুদিন আগেই টিকিট সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৮. কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন: একটি স্থাপত্য বিস্ময়

কক্সবাজারের ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও দর্শনীয় স্টেশন। পর্যটকদের সুবিধার্থে এই স্টেশনে যুক্ত করা হয়েছে বিশ্বমানের সব সুবিধা।

আইকনিক স্টেশনের প্রধান সুবিধাসমূহ:

  • লগেজ লকার ব্যবস্থা: হোটেল চেক-ইন করার আগে বা চেক-আউটের পর লগেজ নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা।
  • ফুড কোর্ট ও রেস্তোরাঁ: আধুনিক খাবারের দোকান ও ক্যাফেটেরিয়া।
  • বিশ্রামাগার ও হোটেল ব্যবস্থা: সাময়িক বিশ্রাম বা রাত্রিযাপনের জন্য উন্নতমানের বিশ্রামাগার।
  • বিশাল পার্কিং: শত শত গাড়ির জন্য নিরাপদ পার্কিং স্পেস।

৯. পর্যটক এক্সপ্রেস নাকি কক্সবাজার এক্সপ্রেস: কোনটি সেরা?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস নাকি পর্যটক এক্সপ্রেস—কোনটি বেশি সুবিধাজনক? নিচে দুটির মূল পার্থক্য তুলে ধরা হলো:

বৈশিষ্ট্যকক্সবাজার এক্সপ্রেস (813/814)পর্যটক এক্সপ্রেস (815/816)
ঢাকা থেকে ছাড়ার সময়রাত ১২:৩০ মিনিটসকাল ০৬:১৫ মিনিট
কক্সবাজার পৌঁছানোর সময়সকাল ০৬:৪০ মিনিটদুপুর ০৩:০০ মিনিট
সাপ্তাহিক বন্ধের দিনমঙ্গলবাররবিবার
যাত্রার ধরণরাতের ভ্রমণ (Overnight)দিনের ভ্রমণ (Day Journey)

আপনি যদি রাতে ঘুমিয়ে যাত্রা করে সকালে কক্সবাজার পৌঁছে পুরো দিন কাজে লাগাতে চান, তবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া বিশ্লেষণ করে এটি পছন্দ করাই সেরা সিদ্ধান্ত হবে।

১০. ট্রেন ভ্রমণের নিরাপত্তা, টিপস ও সাধারণ সতর্কতা

রেলপথে কক্সবাজার ভ্রমণের সময় কিছু সাধারণ বিষয় মাথায় রাখলে আপনার যাত্রা আরও আনন্দময় ও নিরাপদ হবে:

১. সময়সূচী যাচাই: ভ্রমণের পূর্বে টিকিট ও বাংলাদেশ রেলওয়ের আপডেট থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া পুনরায় মিলিয়ে নিন।

২. এনআইডি সাথে রাখা: ট্রেন ভ্রমণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধনের কপি সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।

৩. অনলাইন প্রতারণা থেকে সাবধান: অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে বা কালোবাজারি টিকিট কেনা থেকে বিরত থাকুন।

৪. হোটেল বুকিং: পর্যটন মৌসুমে (নভেম্বর থেকে মার্চ) ট্রেনে ওঠার আগেই কক্সবাজারের হোটেল বুকিং সম্পন্ন করুন।

৫. স্টেশনে সময়মতো পৌঁছানো: ট্রেনের সময়সূচী অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, তাই অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত থাকুন।

১১. কক্সবাজারের প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে সহজে কক্সবাজার পৌঁছে আপনি যেসব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন:

  • লাবণী ও সুগন্ধা বিচ: শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত।
  • ইনানী বিচ ও পাটুয়ারটেক: প্রবালময় পাথর ও নীল জলের নয়নাভিরাম সৈকত।
  • মেরিন ড্রাইভ সড়ক: পাহাড় ও সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে বিস্তৃত মনোমুগ্ধকর সড়ক।
  • মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ: স্পিডবোটে ঘুরে আসার মতো ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক দ্বীপ।
  • ডুলহাজারা সাফারি পার্ক: বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পার্ক।

১২. কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসাসমূহ (FAQ)

প্রশ্ন ১: কক্সবাজার এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলাচল করে?

উত্তর: না, কক্সবাজার এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। সপ্তাহের মঙ্গলবার এটি বন্ধ থাকে।

প্রশ্ন ২: ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?

উত্তর: ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে শোভন চেয়ারের সর্বনিম্ন ভাড়া ৬৮৫ টাকা (ভ্যাট সহ)।

প্রশ্ন ৩: কক্সবাজার এক্সপ্রেসের অনলাইন টিকিট কখন ছাড়ে?

উত্তর: যাত্রার তারিখের ১০ দিন পূর্বে সকাল ৮:০০ টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন পোর্টালে টিকিট উন্মুক্ত করা হয়।

প্রশ্ন ৪: ট্রেনে কি খাবারের সুব্যবস্থা আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনের প্যান্ট্রি কার (খাবার গাড়ি) থেকে পছন্দমতো খাবার কিনে খাওয়া যায়।

উপসংহার

ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছানোর জন্য কক্সবাজার এক্সপ্রেস এক যুগান্তকারী ও যুগোপযোগী সংযোজন। কম খরচ, উচ্চ নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির কারণে ভ্রমণকারীদের কাছে এটি অত্যন্ত সমাদৃত। এই ব্লগে আমরা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া, বন্ধের দিন, অনলাইন বুকিং পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।

আশা করি এই আর্টিকেলে উল্লেখিত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সংক্রান্ত তথ্যগুলো আপনার আগামী কক্সবাজার ভ্রমণকে আরও সহজ, সুন্দর ও চাপমুক্ত করবে। আপনার ভ্রমণ শুভ ও নিরাপদ হোক!

 এছাড়া আজকে পোস্ট নিয়ে আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর এরকম বিভিন্ন রুটের ট্রেনের সময়সূচী জানতে EasyCookMeal ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

আপনার পছন্দের আরও কিছু ক্যাপশন আইডিয়াঃ-

You might also like these recipes